মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগেও ক্যামেরার সামনে শুটিং চলছিল স্বাভাবিক ছন্দে। কেউ ভাবতেও পারেনি, সেই শুটিংয়ের মাঝেই ঘটে যাবে এমন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা কেড়ে নেবে এক প্রতিভাবান অভিনেতার প্রাণ। ২৯ শে মার্চ ২০২৬, বিকেলের সেই সময়টা বাংলা বিনোদন জগতের কাছে এক কালো দিন হিসেবেই থেকে যাবে।
অভিনেতা “রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জী” আর নেই। তার আকস্মিক প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সহকর্মী থেকে শুরু করে অসংখ্য দর্শক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।
প্রাথমিকভাবে যা জানা যাচ্ছে, “ভোলে বাবা পার করেগা” ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিকেল চারটে থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে সমুদ্রের জলে নামার পর হঠাৎ একটি ঢেউ আসে এবং সেই পরিস্থিতিতেই বিপত্তি ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
ঘটনাকে ঘিরে একাধিক মত সামনে এসেছে। কেউ বলছেন শুটিং শেষ হওয়ার পর তিনি জলে নামেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হন। আবার অন্যদিকে ইউনিটের কিছু সদস্য এবং পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী তখনও শুটিং চলছিল এবং একটি ড্রোন শট নেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়েই তিনি এবং সহঅভিনেত্রী শ্বেতা জলে নামেন এবং ঢেউয়ের ধাক্কায় পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুতই টেকনিশিয়ান এবং সিকিউরিটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রথমে শ্বেতাকে উদ্ধার করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাহুলকেও জলের বাইরে নিয়ে আসা হয়। তবে তার শরীরে জল ঢুকে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে জানা যাচ্ছে?
এই ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। ধারাবাহিকের গল্পকার লীনা গাঙ্গুলির বক্তব্য অনুযায়ী, তার স্ক্রিপ্টে সমুদ্রের জলে নেমে শুট করার কোনও দৃশ্য ছিল না। ফলে ঠিক কীভাবে এবং কেন সেই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তাছাড়া এখানে আরো একটা প্রশ্ন উঠে আসছে, যদি পুরো ঘটনাটি ড্রোন ক্যামেরায় ধারণ হয়ে থাকে এবং যদি তা সত্যি হয়, তাহলে সেই ফুটেজ সামনে এলে বা তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দিলে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া। কারণ একাধিক ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং সত্যিটা জানা সকলের জন্যই জরুরি।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি শুধু একজন সফল টেলিভিশন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি বড় পর্দা এবং থিয়েটার জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার অভিনীত বহু কাজ দর্শকদের মনে আজও বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। পাশাপাশি তিনি একজন লেখক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তার এই অকাল প্রয়াণে বাংলা বিনোদন জগৎ এক প্রতিভাবান শিল্পীকে হারালো।
তার প্রতি রইলো শ্রদ্ধা এবং প্রার্থনা। “শান্তিতে থাকুন”




