“জোয়ার ভাঁটা” ধারাবাহিকে আবারও দেখানো হলো UPSC পরীক্ষা, আর আবারও সেই একই ভুলে হাসির খোরাক হয়ে উঠলো পুরো বিষয়টা। দর্শকদের একাংশ তো সরাসরি বলেই ফেলছে, “এটা UPSC না, এটা UPWC — উত্তর পাড়া ওম্যান্স ক্লাব”।
প্রথমবার যখন এই পরীক্ষা দেখানো হয়েছিল, তখনই দর্শকদের চোখ কপালে উঠেছিল। একটা বাইরের লোক সহজেই পরীক্ষা হলে ঢুকে পড়ে, আর উজিকে তার দিদির খবর দিয়ে দেয়। তারপর যা হয়, সেটা তো আরও অবাক করার মতো। ভারতের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম UPSC, আর সেই পরীক্ষার মাঝপথেই উজি বিনা বাধায় হল থেকে বেরিয়ে যায়। না কোনো ইনভিজিলেটরের প্রশ্ন, না কোনো নিয়মের বাধা। যেন এটা কোনো সাধারণ ক্লাস টেস্ট!
ভাবা হয়েছিল, হয়তো পরেরবার মেকার্সরা একটু বাস্তবতা মাথায় রাখবে। কিন্তু না, দ্বিতীয়বার দেখানো দৃশ্য তো আরও অবাক করে দিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে উজি হলে ঢুকলো, আর তার কাঁধে তখনও ব্যাগ ঝুলছে। না কোনো চেকিং, না কোনো সিকিউরিটি। যেন পরীক্ষার হলে ঢোকা মানেই নিজের বাড়িতে ঢোকা!
এখানেই শেষ নয়। দর্শকদের প্রশ্ন, যেখানে আজকাল একটা ছোটখাটো পরীক্ষায় ঢুকতেও এত কড়া নিরাপত্তা থাকে, সেখানে UPSC-এর মতো পরীক্ষায় এমন ঢিলেঢালা ব্যবস্থা দেখানো হলো কীভাবে? ব্যাগ নিয়ে ঢোকা, ফোন নিয়ে ঢোকা, মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়া—সবকিছু এত সহজভাবে দেখানো হয়েছে যে অনেকেই এটাকে সিরিয়াসলি না নিয়ে মজা হিসেবেই নিচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ট্রোলও শুরু হয়ে গেছে। কেউ বলছে, “এই UPSC দিলে তো সবাই অফিসার হয়ে যাবে!” আবার কেউ বলছে, “এটা UPSC না, এটা ফ্যান্টাসি পরীক্ষা!”
আসলে সমস্যা শুধু একটা সিন নিয়ে নয়। যখন কোনো ধারাবাহিকে UPSC-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন পরীক্ষাকে দেখানো হয়, তখন দর্শকদের একটা নির্দিষ্ট প্রত্যাশা থাকে। তারা চায় অন্তত বেসিক বিষয়গুলো বাস্তবের সাথে মিলুক। কিন্তু এখানে সেই জায়গাটাতেই গিয়ে পুরো ব্যাপারটা ভেঙে পড়েছে।
ফলাফল? যে জিনিসটা হওয়ার কথা ছিল অনুপ্রেরণার, সেটাই হয়ে গেল হাসির বিষয়।
এখন প্রশ্নটা একেবারেই সোজা। মেকার্সরা কি এই বেসিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে, নাকি ভবিষ্যতেও এমনভাবেই বাস্তবতার সাথে কোনো মিল না রেখে দেখাতে থাকবে? 🤔



