
টলিপাড়ায় এই মুহূর্তে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে শুটিং। আগামী মঙ্গলবার থেকে সব ধারাবাহিক এবং ছবির কাজ থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ এবং শিল্পীদের নিরাপত্তার দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে আয়োজিত বৈঠকের পর।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!শনিবার থেকেই প্রতিবাদের সুর চড়তে শুরু করে। শিল্পীদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কীভাবে এমন একটা ঘটনা ঘটল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাহুলের পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। ফলে গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রবিবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একাধিক পরিচিত মুখ। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখা হবে। তাদের বক্তব্য, শুটিং করতে গিয়ে প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। কখনও নদীর ধারে, কখনও সমুদ্রে, কখনও আবার দুর্গম জায়গায় কাজ করতে হয়। এই অবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব বড় প্রশ্ন তুলছে।
এবার নতুন করে আরও কিছু দাবি সামনে এসেছে। প্রতিটি শুটিং সেটে অ্যাম্বুলেন্স রাখা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখার কথাও উঠেছে। শিল্পীদের কথায়, কাজ করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু সেই ঝুঁকির জন্য প্রস্তুতিও থাকতে হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দর্শকদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, একটি প্রোডাকশন হাউজের সম্ভাব্য গাফিলতির জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রির শুটিং বন্ধ করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটাও ভাবার বিষয়। অনেকেই বলছেন, যদি কোনও নির্দিষ্ট সেটে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই প্রোডাকশন বা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
উদাহরণ হিসেবে কেউ কেউ বলছেন, যদি কোনও একটি স্কুলে নিরাপত্তার অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে কি তার জন্য সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়? নাকি সেই নির্দিষ্ট স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বাকি জায়গায় নিয়ম আরও কঠোর করা হয়? একই যুক্তি এখানেও প্রযোজ্য হতে পারে বলেই মত একাংশের।
এখানেই শেষ নয়, আরও একটা প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে দর্শকদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, এখানে কিছু হলেই বারবার শুটিং বন্ধ করে দেওয়াটা কি আদৌ সমাধান? সব সময় কেন ধরে নেওয়া হয়, কাজ বন্ধ করলেই সমস্যার মীমাংসা হয়ে যাবে? তাদের মতে, যে প্রোডাকশন হাউজ দোষ করেছে, তাদের সরাসরি ব্ল্যাকলিস্ট করা উচিত। প্রয়োজন হলে সেই ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কলাকুশলীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের ঝুঁকি নিতে সাহস পাবে না এবং গোটা ইন্ডাস্ট্রিও দ্রুত নিয়মের মধ্যে ফিরে আসবে।
আবার অন্য একটি অংশের মতে, এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ না নিলে হয়তো সমস্যাটা গুরুত্ব পেত না। পুরো ইন্ডাস্ট্রি একসঙ্গে থামলে তবেই বিষয়টা বড় করে সামনে আসে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। একদিকে রয়েছে নিরাপত্তার দাবি, অন্যদিকে রয়েছে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে কীভাবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে টলিপাড়া এবং একই সঙ্গে শিল্পীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যায়।




