শুটিং বন্ধে যখন অনিশ্চয়তার ছায়া টলিপাড়ায়, তখন ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিরিয়ালের টেকনিশিয়ানদের পাশে জিতু কমল—পারিশ্রমিক দেওয়ার বড় সিদ্ধান্ত অভিনেতার! 🙌

টলিপাড়ায় এই মুহূর্তে এক অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছে। শুটিং বন্ধ থাকায় পুরো ইন্ডাস্ট্রির কাজ কার্যত থমকে গেছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সেই সব টেকনিশিয়ানদের উপর, যাঁরা প্রতিদিনের আয়ের উপর নির্ভর করে সংসার চালান। লাইট, ক্যামেরা, সেট সবকিছু বন্ধ থাকায় তাঁদের রোজগারও বন্ধ। ফলে বহু পরিবারের সামনে তৈরি হয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তা।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

এই অবস্থাতেই সামনে এলেন অভিনেতা জিতু কমল। নিজের ধারাবাহিক চিরদিনই তুমি যে আমার এর সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শুটিং বন্ধ থাকলেও তাঁদের পারিশ্রমিক নিজে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন জিতু। এই উদ্যোগে স্বস্তি পেয়েছেন সেই ইউনিটের বহু কর্মী। অনেকেই বলছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

জিতু কমল এমন একজন মানুষ, যিনি সব সময় সোজা কথাটা সোজা ভাবে বলতে ভালোবাসেন। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে তিনি বরাবরই ঠোঁট কাটা বলে পরিচিত। যেটা তার কাছে ঠিক মনে হয়, সেটা তিনি নির্দ্বিধায় বলে দেন, আর যেটা ভুল মনে হয় সেটাকেও সরাসরি ভুল বলে দেন। সামনে কি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বা তার কথার ফলে কার কী প্রতিক্রিয়া হবে, সেই হিসেব তিনি সাধারণত করেন না।

এই স্পষ্টবাদী স্বভাবের জন্যই জিতুকে নিয়ে মতভেদও রয়েছে। অনেকেই তার এই সরাসরি কথা বলার সাহসকে সম্মান করেন, সমর্থন করেন। আবার এমনও অনেকে আছেন, যারা তাকে পছন্দ করেন না। হয়তো এই স্বভাবের কারণেই তিনি অজান্তেই কিছু বিরোধীও তৈরি করেছেন ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে।

তবে তার আরেকটা দিকও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জিতু কমল শুধু কথা বলেন না, প্রয়োজনে কাজ করেও দেখান। বিপদের সময় এগিয়ে আসার মানসিকতা তার মধ্যে বরাবরই দেখা গেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি কোনও ধনী পরিবারের সন্তান নন। তার বাবা মা তাকে শিখিয়েছেন, পাশে থাকা মানুষ সমস্যায় পড়লে সাহায্য করতে হয়। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই তিনি সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে জিতু শুধু সাহায্যের কথাই বলেননি, সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন। এর আগে প্রতীকী প্রতিবাদ নিয়ে তাকে নানা কথা শুনতে হয়েছে। কেউ কেউ তার পদক্ষেপকে প্রচারের কৌশল বলেও মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি তার কাজ খোলাখুলি করবেন। কারণ এতে যদি কিছু মানুষের উপকার হয়, তাহলে সেটাই তার কাছে যথেষ্ট।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যদি এমন পরিস্থিতি আসে যে তার নিজের কাজও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তিনিও এই টেকনিশিয়ানদের কাছেই সাহায্য চাইবেন। এই কথাতেই তার মানবিক দিকটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর এমনিতেই টলিপাড়ার পরিবেশ ভারী হয়ে রয়েছে। তার উপর শুটিং বন্ধ থাকার কারণে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই কঠিন সময়ে জিতু কমলের এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপই ইন্ডাস্ট্রিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Latest Updates