স্টার জলসার “প্রতিজ্ঞা” সিরিয়ালের সাম্প্রতিক এপিসোডে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটল, যেগুলো দেখে সত্যিই বোঝা যাচ্ছে গল্প এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। বিশেষ করে আশ্রয় বাড়িকে কেন্দ্র করে যে বড় চক্রান্তটা শুরু হয়েছে, সেটাই এখন গল্পের মূল আকর্ষণ।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রোমোটার রুদ্রপ্রসাদ কাঞ্জিলাল এবং তার বোন রোমা কাঞ্জিলালের নজর পড়েছে সেই আশ্রয় বাড়ির উপর, যেখানে ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছে পরী অর্থাৎ আমাদের ছুটি। আর এই আশ্রয় দখল করার জন্য তারা হাত করে ঝুমকিকে, যে এই আশ্রমেই বড় হয়েছে এবং ছুটির কাছে একেবারে বোনের মতো।
কিন্তু এখানেই বড় টুইস্ট। এই ঝুমকিই আসলে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করে। লোভে পড়ে সে প্রোমোটারের সঙ্গে ডিল করে বসে এবং আশ্রয়টা তুলে দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায়। এমনকি সে ছুটির পালিত বাবাকেও চাপ দিতে শুরু করে, টাকা নিয়ে জমিটা দিয়ে দিতে বলে।
এরপর প্রোমোটার আর তার বোন সরাসরি আশ্রয় বাড়িতে এসে ভয় দেখিয়ে, জোর করে সেই জায়গা দখল করার চেষ্টা করে। আর সেই সময় ঝুমকিও তাদের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে কথা বলতে থাকে, যা দেখে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।
কিন্তু ঠিক তখনই এন্ট্রি হয় ছুটির। আর এসে সে প্রথমেই ঝুমকিকে থাপ্পড় মেরে স্পষ্ট করে দেয়, সে কোনোভাবেই এই অন্যায় মেনে নেবে না। শুধু তাই নয়, প্রোমোটারের দেওয়া টাকা সে ফিরিয়ে দেয় এবং সবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন রুদ্রপ্রসাদ রেগে গিয়ে বন্দুক বের করে ছুটির মাথায় ধরে। কিন্তু এখানেই ছুটির চরিত্রটা আরও শক্ত হয়ে ওঠে। সে একটুও ভয় না পেয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বলে, সাহস থাকলে গুলি চালাতে। এই দৃশ্যটা সত্যিই এপিসোডের অন্যতম হাইলাইট।
শেষমেষ প্রোমোটার আর তার বোন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তারা যেভাবেই হোক এই আশ্রয় কেড়ে নেবে। আর ছুটিও পাল্টা জানিয়ে দেয়, এই আশ্রয়ের একটা ইটও সে বিক্রি হতে দেবে না।
এরপর ছুটি থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চায়। কিন্তু সেখানে গিয়েও আরেকটা বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল। পুলিশ অফিসার প্রোমোটারের প্রভাবে অভিযোগ নিতে গড়িমসি করতে থাকে, যা দেখে বোঝা যায় লড়াইটা এত সহজ হবে না।
অন্যদিকে গল্পে আরেকটা বড় মোড় আসে, যখন জানা যায় ছুটির আসল বাবা বেঁচে আছেন এবং তিনি একজন উকিল। পুলিশ কমিশনার জানিয়ে দেয়, এত বছরেও কোনো খোঁজ না মেলায় কেসটা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের স্ত্রী আর মেয়েকে তিনি নিজেই খুঁজে বের করবেন।
এখন গল্প এসে দাঁড়িয়েছে এক দারুণ জায়গায়। একদিকে আশ্রয় বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে ছুটির আসল পরিচয়ের রহস্য ধীরে ধীরে সামনে আসছে। এখন দেখার বিষয়, ছুটি কি পারবে এই প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আশ্রয়কে বাঁচাতে, আর তার বাবা কি খুঁজে পাবে তার হারিয়ে যাওয়া পরিবারকে।



