অবশেষে “Dhurandhar 2” দেখলাম 👀😱
প্রায় চার ঘণ্টার একটা সিনেমা। কিন্তু বাড়ি ফিরে যখন লিখতে বসেছি, তখন ইতিমধ্যে পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেছে—তবুও এখনো যেন একটা ঘোরের মধ্যেই আছি। সত্যি বলছি, হাজার চেষ্টা করেও এই সিনেমার ভেতর থেকে নিজেকে বের করতে পারছি না। 🔥
আসলে এই সিনেমাটা আমার First Day First Show-ই দেখার কথা ছিল। কিন্তু বাড়িতে হঠাৎ একটা মেডিক্যাল এমারজেন্সি চলে আসায় গত এক সপ্তাহ কিছুই যেমন লিখতে পারিনি, তেমনি সিনেমাটাও মিস হয়ে যায়। 💔
তবে একটা কথা সত্যি—সবুরে মেওয়া ফলে। গত দুদিন ধরে যেভাবে এই সিনেমা নিয়ে শুনছিলাম, এক্সাইটমেন্টটা যেন দশগুণ বেড়ে গিয়েছিল। আর হয়তো সেই কারণেই সিনেমাটা দেখে আরও বেশি উপভোগ করেছি।
আদিত্য ধর যেভাবে এই সিনেমাটা তৈরি করেছে, সেখানে তোমার এক্সপেক্টেশন ১০০ গুণ বাড়লেও সমস্যা নেই—সে সেটাকে সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেবে। 👍
চিন্তা কোরো না, গল্প নিয়ে আমি কিছুই বলছি না। কারণ তোমাদের দেখার মজাটা নষ্ট করতে চাই না। তবে কিছু জিনিস না বললেই নয়।
রণবীর সিংয়ের চরিত্র—হামজা বা জসকীরত—একেবারে অসাধারণ। একটা মানুষ, যে নিজের পুরো জীবনটা দেশের জন্য দিয়ে দেয়, অথচ বিনিময়ে কিছুই পায় না। উল্টে যা ছিল তাও হারিয়ে ফেলে। এই চরিত্রটা বুঝিয়ে দেয়, সত্যিকারের স্পাইদের জীবন আসলে কতটা ত্যাগের।
আমরা এতদিন যা দেখে এসেছি—স্পাই মানেই বিলাসবহুল জীবন, মদ-মেয়ে, বিদেশে ঘোরা—এই সিনেমা সেটা ভেঙে দিয়েছে। বাস্তব একেবারেই আলাদা।
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর ইমোশন। চার ঘণ্টার সিনেমা, কিন্তু এক সেকেন্ডের জন্যও বোর হওয়ার সুযোগ নেই। শুরুতে যেমন কাঁদাবে, শেষে তার থেকেও বেশি কাঁদাবে। আর এক্কেবারে শেষের ঐ ঘটনাটা—সিনেমা শেষ হওয়ার পরেও মাথার ভেতর ঘুরতেই থাকবে।
কিছু মোমেন্ট একেবারে অবিস্মরণীয়—
ইন্টারভ্যাল ব্লক, তার পরের সারপ্রাইজ, হামজা–ইয়েলিনার কনভারসেশন, আর একদম শেষের সেই মুহূর্তটা।
অভিনয়ের কথা বলতে গেলে—রণবীর সিং হয়তো নিজের ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স দিয়েছে এখানে।
আলম ভাই, ইকবাল অর্থাৎ অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন, মাধবন, জামাল ভাই—প্রত্যেকেই দুর্দান্ত। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে জামাল ভাই যে সারপ্রাইজটা দেয়, সেটা এক্বেবারে আনএক্সপেক্টেড।
মিউজিক 🔥
প্রত্যেকটা সিনকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
আর সবশেষে—আদিত্য ধর।
এই সিনেমার আসল হিরো। লোকটা যে পরিমাণ রিসার্চ করে এই সিনেমাটা বানিয়েছে, সেটা আলাদা করে গুগল করলে বুঝতে পারবে। সত্যি বলতে, উনি একটা নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছেন।
অনেকে বলছে, সিনেমাটা নাকি একটা পলিটিক্যাল আইডিওলজিকে গ্লোরিফাই করেছে—একেবারেই ভুল কথা। এখানে কোনো গ্লোরিফিকেশন নেই। বরং বাস্তব আর কল্পনার একটা সুন্দর ব্যালান্স তৈরি করা হয়েছে। আর যেগুলো নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেগুলোর পেছনেও যথেষ্ট ফ্যাক্ট আছে।
বক্স অফিসেও সিনেমাটা ঝড় তুলেছে—ভারত থেকে বিশ্বজুড়ে।
হ্যাঁ, প্রথম দুদিন তামিল ও তেলেগু ভার্সন রিলিজ না হওয়ায় একটু প্রভাব পড়েছিল। কিন্তু তবুও ওই অঞ্চলের দর্শকরা হিন্দি ভার্সনেই সিনেমাটা দারুণভাবে উপভোগ করেছে। এমনকি তামিলনাড়ুর মতো জায়গাতেও সিনেমাটা প্রশংসা পাচ্ছে—এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। 😱
Overall, “Dhurandhar 2” একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
এই সিনেমা শুধু বক্স অফিস রেকর্ডই ভাঙবে না, ভারতীয় সিনেমাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
যারা এখনো দেখোনি—সময় করে একবার দেখে এসো।
আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, হতাশ তো হবেই না—উল্টে আমাকে ধন্যবাদ দেবে। 😉
আমরা সাধারণত রেটিং দিই না, কিন্তু এটাকে যদি রেট করতেই হয়—
⭐ 5/5 👍




