“জোয়ার ভাঁটা” ধারাবাহিকে UPSC ট্র্যাকটা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে দর্শকরা শুধু প্রশ্নই তুলছে না, সরাসরি ব্যঙ্গও শুরু করে দিয়েছে। আগেরবার পরীক্ষার দৃশ্য নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছিল, এবার পুরো প্রক্রিয়াটাকেই এমনভাবে দেখানো হয়েছে যে অনেকেই বলছেন, বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়াই কঠিন। এমনকি দর্শকদের একাংশের মতে, এইভাবে উপস্থাপন করে UPSC-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাকেই অসম্মান করা হয়েছে, আর অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, এটাকে যেন একেবারে “বাংলা সিরিয়ালের বাড়ির পরীক্ষা” বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!প্রথমেই বাস্তব প্রক্রিয়াটা সংক্ষেপে বোঝা দরকার। ভারতে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ধাপগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এগোয়। প্রথমে প্রিলিমস পরীক্ষা হয়। সেটি পাস করলে প্রার্থী মেইনস বা লিখিত পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়। মেইনসের পর থাকে ইন্টারভিউ। এই তিনটি ধাপ মিলিয়ে ফাইনাল মেরিট লিস্ট তৈরি হয়। তারপর প্রার্থীর র্যাঙ্ক অনুযায়ী সার্ভিস নির্ধারণ করা হয়, যেমন IAS বা IPS। এরপর শুরু হয় ট্রেনিং। IPS হলে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল পুলিশ একাডেমিতে ট্রেনিং হয়। ট্রেনিং শেষ করে পোস্টিং পাওয়ার পরই ধীরে ধীরে বিভিন্ন শাখায় কাজের সুযোগ আসে, যেমন সাইবার ক্রাইম সেল।
এই পুরো প্রক্রিয়াটা দীর্ঘ এবং ধাপে ধাপে এগোয়। কিন্তু ধারাবাহিকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেখানে এই ধাপগুলোর প্রায় কোনটাই নেই। দেখানো হয়েছে, নায়িকা উজি লিখিত পরীক্ষায় পাস করেই র্যাঙ্ক করে ফেলল এবং সরাসরি ট্রেনিং শুরু হয়ে গেল। ইন্টারভিউ বা সার্ভিস অ্যালোকেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এরপর আরও একটি বিষয় দর্শকদের নজরে এসেছে। সিরিয়ালে দেখানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সাইবার ক্রাইম বিভাগের এক উচ্চপদস্থ অফিসার আগেই জানিয়ে দিচ্ছেন যে উজি তার টিমে কাজ করবে। বাস্তবে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া যায় না। পোস্টিং এবং দায়িত্ব নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক নিয়মের মধ্যে হয়।
এই কারণেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এখানে কি সত্যিই UPSC-এর প্রক্রিয়া দেখানো হচ্ছে, নাকি সেটিকে অতিরিক্ত সরল করে দেখানো হয়েছে। অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, যেখানে বাস্তবে একজন প্রার্থীকে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিতে হয়, সেখানে ধারাবাহিকে সবকিছু যেন খুব সহজভাবে ঘটে যাচ্ছে।
সমালোচনার মূল জায়গাটা আসলে একটাই। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষাকে দেখানোর সময় অন্তত বেসিক বিষয়গুলো মেনে চলা দরকার ছিল। কিন্তু ধারাবাহিকে সেই বেসিক সংবেদনশীলতার অভাবই বেশি করে চোখে পড়ছে।
ফলে যেটা হওয়ার কথা ছিল অনুপ্রেরণার গল্প, সেটাই এখন দর্শকদের কাছে প্রশ্ন এবং ব্যঙ্গের বিষয় হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এই ট্র্যাকটি কীভাবে এগোয় এবং মেকার্সরা এই সমালোচনাগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয়, সেটাই এখন দেখার।




