অবশেষে আজকে দেখেই নিলাম এই মুহূর্তের সবচেয়ে আলোচিত হিন্দি ছবি “ধুরন্ধর”। তো কেমন হলো সিনেমাটা, আর আমারই বা কেমন লাগলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক…
বলিউডে এখন ভাল সিনেমার খরা চলছে বলে যে অভিযোগ ওঠে, ‘ধুরন্ধর” কিন্তু সেই অভিযোগের মুখে একটা জোরালো থাপ্পড়। যারা না দেখে এই ছবিকে খারাপ বলছে, তারা সত্যিই বড় ভুল করছে, কারণ এই সিনেমাটা থিয়েটারে বসে উপভোগ করার মতোই কিন্তু একটা সিনেমা। 👍
ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা টেনশন ধরে রাখা হয়েছে। গল্প পাকিস্তানের রাজনৈতিক অন্ধকার দিক, গোপন চুক্তি আর ক্ষমতার লড়াইকে ঘিরে। একটুও বাড়তি নাটকীয়তা নেই, বরং পরিচালক আদিত্য ধর যা দেখিয়েছেন সেটা বাস্তবের কাছাকাছি। বোঝা যায়, প্রচুর রিসার্চ করে পুরো প্লট দাঁড় করিয়েছেন। 👍
অভিনয়ের দিক থেকে এই সিনেমা সহজে ভুলবার নয়। অক্ষয় খান্না দুর্দান্ত। 🔥 তার চোখের এক্সপ্রেশন আর সংলাপ বলার ধরন গল্পকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রণবীর সিং যেন নিজের ইমেজ ভেঙে নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছেন। 💥 অতিরিক্ত ওভারঅ্যাক্টিংয়ের বদলে পরিমিত অভিনয়, যা অবাক করে দেয়। সঞ্জয় দত্ত পুরোটাই নিজের ছন্দে। 💣 যেই মুহূর্তে স্ক্রিনে আসে, সিনেমা বদলে যায়। অর্জুন রামপাল স্মার্ট, স্থির আর চরিত্রের ভিতটা দুর্দান্তভাবে ধরে রেখেছেন। 🔥💥 আর মাধবন… এই মানুষটাকে নিয়ে বেশি বলার দরকার নেই। ওর অভিনয়ে একটা অদ্ভুত গভীরতা আছে, যা সিনেমাটাকে আরও ভারী করেছে। 👍
এর পাশাপাশি রণবীর সিং আর সারা অর্জুনের কেমিস্ট্রি ফ্রেশ লাগছে। 🥰 একদম জোর করে নয়, গল্পের ভেতর থেকেই তৈরি হয়েছে। ছবির মিউজিক ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আলাদা করে উল্লেখ করার মতো। দৃশ্যের আবেগ আর উত্তেজনাকে আরও প্রখর করেছে সাউন্ডট্র্যাক। 👌
এবার আসি সিনেমার অ্যাকশন নিয়ে। এক কথায় বলতে গেলে ধুরন্ধর–এর অ্যাকশন দৃশ্য ভয়ংকর খতরনাক। গুলি, বিস্ফোরণ, হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট—প্রতিটা সিকোয়েন্স এমনভাবে সাজানো যে দর্শক চেয়ারে বসে কেঁপে উঠবে। রক্তপিপাসু রিয়ালিজমের পরিমাণ এতটাই তীব্র যে এটা পরিবার নিয়ে বসে দেখার ছবি নয়। এই সিনেমা নিশ্চিতভাবেই ১৮+, এবং সেটা শুধু সংলাপ বা দৃশ্যের জন্য নয়, বরং সহিংসতার নগ্ন বাস্তবতাকে যে নির্দ্বিধায় দেখানো হয়েছে তার জন্য। 👍
তবে সব ভালো জিনিসেরও খুঁত থাকে। সিনেমাটার লেন্থ একটু বেশি বড়। কিছু মুহূর্তে চিত্রনাট্য অকারণেই ধীরে চলে, যার ফলে মাঝে মধ্যে বোরিং লাগতে পারে। যদি এই অংশটা আরও টাইট করা যেত, তাহলে সিনেমাটা একধাপ এগিয়ে যেতে পারত। যদিও সৎভাবে বললে, এই সামান্য ত্রুটি ধুরন্ধরের মর্যাদা কমানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। 🔥
সব মিলিয়ে “ধুরন্ধর” যে একটা মাস্টারপিস, সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে আবারও মনে করিয়ে দিল—শক্তিশালী কনটেন্ট, ওজনদার অভিনেতা আর বোল্ড ডিরেকশন থাকলে দর্শক কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাহবা ও তালি দিয়েই ওঠে। 👏
শেষ কথা একটাই — যারা ধুরন্ধরকে খারাপ বলছে, তারা সিনেমাটা নয়, নিজেদের বোঝার ক্ষমতাকে ছোট করছে। 👍




